মার্জিন বিধিমালা সংশোধন

মূলধনের চার গুণ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান

পুঁজিবাজারে মার্জিন অর্থায়নের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের কোর ক্যাপিটাল বা নিট সম্পদের সর্বোচ্চ চার গুণ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ দিতে পারবে। একই সঙ্গে কোনো একক সিকিউরিটিতে মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মার্জিন পাওয়ার যোগ্য শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) সীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে।

গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা ২০২৫-এর বিভিন্ন বিধি ও উপবিধির সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৬ নভেম্বর মার্জিন বিধিমালা ২০২৫ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়নকারীর কোর ক্যাপিটাল বা নিট সম্পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ মার্জিন অর্থায়নের সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে এ সীমা ছিল তিন গুণ। এখন কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার কোর ক্যাপিটাল বা নিট সম্পদের চার গুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না। তবে একই গ্রাহকের ক্ষেত্রে মার্জিন অর্থায়নের সীমা তার ইকুইটির বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইকুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ১: ১ নির্ধারণ করা হয়েছে।

একটি সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বিধিতে কোনো একক সিকিউরিটিতে মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করা যাবে। অর্থাৎ কোনো একটি শেয়ারে মার্জিন অর্থায়নকারীদের অর্থায়ন কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে।

মার্জিন অর্থায়নের জন্য যোগ্য সিকিউরিটিজ নির্ধারণে মূল্য-আয় অনুপাতের সীমাও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিতে কোনো শেয়ারের পিই রেশিও ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক হলেও মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। তবে তালিকাভুক্ত জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই রেশিওর পরিবর্তে প্রাইস-টু-বুক (পিবি) রেশিও বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব কোম্পানির পিবি রেশিও ৩-এর বেশি হলে অথবা নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক হলে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

সংশোধিত বিধিমালায় প্রথমবারের মতো মার্জিন হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকের ন্যূনতম বিনিয়োগের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। মার্জিন অর্থায়ন গ্রহণের সময় কোনো গ্রাহকের মার্জিন হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ না থাকলে ওই হিসাবে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। এছাড়া কোনো গ্রাহক নিজস্ব নগদ অর্থ দিয়ে মার্জিন অর্থায়ন-অযোগ্য কোনো সিকিউরিটি কিনলেও সেটির মূল্য মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইকুইটি হিসেবে গণনা করা যাবে না।

গ্রাহকের হিসাবে সংরক্ষিত মার্জিনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিতে কোনো মার্জিন হিসাবে গ্রাহকের ইকুইটি মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশের কম হতে পারবে না। ইকুইটি এ সীমার নিচে নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট মার্জিন অর্থায়নকারীকে গ্রাহককে মার্জিন কল দিতে হবে। লিখিতভাবে বা ই-মেইল কিংবা অন্যান্য অনুমোদিত মাধ্যমে গ্রাহককে এ বিষয়ে জানাতে হবে।

মার্জিন কলের পর তিন লেনদেন দিবস পার হলেও গ্রাহক প্রয়োজনীয় মার্জিন জমা না দিলে এবং ইকুইটি ৫০ শতাংশে উন্নীত বা সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হলে তাকে নতুন করে মার্জিন অর্থায়ন দেয়া যাবে না। তবে গ্রাহকের ইকুইটি ৫০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সিকিউরিটিজ বিক্রি করার সুযোগ মার্জিন অর্থায়নকারীকে দেয়া হয়েছে। গ্রাহকের ইকুইটি মার্জিন অর্থায়নের ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে নতুন বিধানে আরো কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের হিসাবের প্রয়োজনীয়সংখ্যক সিকিউরিটিজ কোনো নোটিস ছাড়াই বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি করতে হবে। তবে মার্জিন অর্থায়নকারীর বিক্রয় আদেশ দেয়ার পরও যদি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর না হয় কিংবা বিলম্বে কার্যকর হয়, সেক্ষেত্রে ওই ক্ষতির দায় মার্জিন অর্থায়নকারীর ওপর বর্তাবে না, এমন শর্তও রাখা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়নের আওতা আরো স্পষ্ট করা হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার ছাড়া অন্য কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে ‘‌জি’, ‘‌এন’ ও ‘‌জেড’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজ এবং এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্লাটফর্ম বা বোর্ডে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কোনোভাবেই মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

মার্জিন অর্থায়নের জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব রাখার বিধান আরো স্পষ্ট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মার্জিন অর্থায়নের জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে হবে এবং ওই হিসাব মার্জিন অর্থায়নসংক্রান্ত কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া কোনো শাখা অফিস বা ডিজিটাল বুথের নামে পৃথক মার্জিন ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে না। এরই মধ্যে এমন নামে পরিচালিত হিসাব থাকলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর কমিশনের অনুমোদন ছাড়া তা পরিচালনা করা যাবে না।

আরও